ক্ষুদ্র এমিবা থেকে নীলতিমি অবধি সকল জীবের সমস্ত জৈবিক কাজ ও বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে যে DNA, তার প্রতি লক্ষ্য করা যাক। ডিএনএর মিনিং হলো Deoxyribonucleic acid. ডি অক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড। কয়েক ধরণের ভাইরাসের কথা বাদ দিলে কোনো জীবের এমন সজীব কোষ নেই, যেখানে নেই ডিএনএ। সে হচ্ছে জীবনের ব্লুপ্রিন্ট বা নীল নকশা।

কোষের মধ্যে অন্য যেসব উপাদান থাকে, তার অণুর আকারের তুলনায় DNA অণু সবচেয়ে বড়ো । প্রজাতি অনুসারে DNA -র আয়তনের তারতম্য রয়েছে । একটি ব্যাকটিরিয়া। তার কোষের DNA -র দৈর্ঘ্য 1.4 mm । একজন মানুষ । তার দেহকোষের DNA -র দৈর্ঘ্য 174 cm ।

ক্ষুদ্র এই ডিএনএ কী কাজ করে? আমাদের দেহগঠনের শুরুর দিকে তাকান। মাতৃগর্ভে একটি Ovum বা ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হলো একটি Sperm বা শুক্রাণু। উভয়ের মধ্যে রয়েছে ডিএনএ। উভয় ডিএনএ মিলে তৈরী হচ্ছে একটি নতুন ডিএনএ। জন্ম নিচ্ছে একটি নতুন কোষ।
নতুন কোষটি এরপর নিজেই নিজেকে করছে বিভাজিত। এক থেকে দুইয়ে, দুই থেকে চারে, চার থেকে আটে, আট থেকে ষোলোয় …
কোষের সংখ্যা বাড়ছে আর জন্ম নিচ্ছে নতুন অঙ্গ। হাত , পা, নাক, কান, চোখ, মুখ … ভ্রুণ লাভ করছে মানবআকার!

এই যে মাতৃগর্ভে নিজের গঠন ও বর্ধন, তারপর জন্ম লাভ, বড় হতে থাকা এবং এই ধারায় আমাদের আজ, আগামীকাল, মরণ অবধি যতো শরীরের যতো কাজ, সবকিছু চালিত হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ডিএনএ দ্বারা।সে প্রতিটি জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহকের ভুমিকা পালন করে। আমাদের দেহ গঠিত হয়েছে যতোসব কোষে, তাদের কেন্দ্র হচ্ছে এই ডিএনএ। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জীব কোষ যতো কাজ করে, সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডিএনএ প্রতিটি জীবন্ত জিনিসের biological activities বা জৈবিক সকল কাজ পরিচালনা করে।
কতো কোষ মিলে গঠিত আমাদের দেহ? প্রায় ৭০ থেকে ১০০ টিলিয়ন দেহকোষ মিলে মানবদেহের গঠন। এসব কোষের বিন্যাস ও শৃঙ্খলা বিস্ময়কর। প্রতিটি কোষে খাদ্য পৌছে দেয়ার জন্য শিরা ও ধমনীর যে পাইপলাইন, তার দৈর্ঘ ৬০ হাজার মাইল। এর সর্বত্র কাজ করে যে ডিএনএ, তার মোট দৈর্ঘ্য ২০০০০০০০০০০ কি.মি.। মানে, পৃথিবী থেকে সূর্য পর্যন্ত ৫০ বারেরও বেশি আসা যাওয়া করলে যে দূরত্ব অতিক্রান্ত হবে, তার সমান। কিন্তু সেই ডিএনএ এত সূক্ষ্ম যে, পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষ থেকে যদি ডিএনএ-কে আলাদা করে ফেলা হয়, সবগুলোকে চায়ের চামচে রাখলে চামচের তলানিতে তা পড়ে থাকবে!

ডিএনএ রহস্য নিয়ে যখন ভাবলাম, মনে পড়ে গেলো, আল্লাহর বাণী, ওয়াফি আনফুসিকুম, আল্লাহর নিদর্শন তো তোমাদের নিজেদের সত্তায় ছড়িয়ে আছে! আফালা-তুবসিরুন- এরপরও তোমরা তা দেখো না?