arts education future

এসএসসি এবং এইচএসসিতে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা করলে ভবিষ্যতে কি কি করা যেতে পারে

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থীকে সবচেয়ে কঠিন বাঁধাটি অতিক্রম করতে হয় এইচএসসি পাশ করার পর উচ্চ শিক্ষার প্রবেশ মুখে। মাধ্যমিক উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ে এসেই আমাদের অনেক কে বেছে নিতে হয়, বিজ্ঞান পরব, মানবিক শিক্ষায় পড়ব না ব্যবসা শিক্ষায় পড়ব। বিজ্ঞানের পর অবশ্য ছাত্র ছাত্রীরা ব্যবসা শিক্ষায় পড়তে ছেলে মেয়রা বেশি আগ্রহী। কিন্তু পরার পর ভবিষ্যতে আপনি কোন লাইনে পড়াশুনা করতে পারেন সেটা নিয়ে এই লেখাটি ।

এইচএসসি পাশের পূর্বেই অর্থাৎ স্কুল পূর্বেই যদি এই লেখাটি একজন অভিভাবক কিংবা শিক্ষার্থীর হাতে যায় তাহলে এইচএসসি উত্তর উচ্চশিক্ষা বিষয়ক যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয় সেটিতে অনেক সুবিধা হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

অর্থনীতি (Economics)
একটি দেশের সামগ্রিক অর্থ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব অর্থনীতিবিদদের। তাছাড়া বর্তমানে অর্থ সংশ্লিষ্ট কাজের দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বিভাগের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দেশের সব কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বেশকিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত অনেক কলেজে এই বিষয়টি পড়ানো হয়।
দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অনেক বিষয়ের উপর পিএইচডি করা যায়।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিসিএস ক্যাডারে যোগদান করা ছাড়াও দেশের ব্যাংক বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যবসা- প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন প্রাইভেট ফার্ম, শিক্ষকতা ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গবেষক হিসেবে চাকুরি লাভ করে থাকে।

আইন (Law)
আইন বিষয়ের চাহিদা বহুবিদ- প্রথমত, আইনজীবী হিসেবে কোর্টে মামলা পরিচালনা করা। দ্বিতীয়ত, সরকারি (বিসিএস জুডিশিয়াল) এবং দেশি, বিদেশি ও বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানীতে আইন কর্মকর্তা বা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ লাভ করে কাজ করা যায়।

উল্লেখ্য সরকার পক্ষের মামলা পরিচালনা করার জন্য সরকার দেশের বিভিন্ন আদালতে আইনজীবীদের মধ্য থেকেই আইন কর্মকর্তা নিয়ে থাকেন। এসব ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
দেশের সব কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বেশকিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে চার বছর মেয়াদী অনার্স কোর্স চালু আছে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত আইন কলেজেসমূহে সাধারন এলএলবি ডিগ্রি দেওয়া হয়।

ইংরেজি (English)
ইংরেজি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা ও সাহিত্য। আন্তর্জাতিক ভাষা হওয়ার দরুন এর ব্যাপক চাহিদা আছে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে। বলা চলে চাকরির ক্ষেত্রে ইংরেজি জানার কোন বিকল্প নেই। বিভিন্ন মালটিন্যশনাল কোম্পানী, দূতাবাস ও বিদেশে চাকুরি নেওয়ার ক্ষেত্রে ইংরেজি একটি অপরিহার্য ভাষা। বাংলাদেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির চাহিদা সর্বজন স্বীকৃত।
দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান এবং দেশি ও বিদেশি ব্যাংকে উচ্চ বেতনে চাকুরির সু-ব্যবস্থ রয়েছে। বিসিএস এর বিভিন্ন ক্যাডারেও ইংরেজির ছেলে-মেয়েরা যথেষ্ট ভাল করে থাকে।

(Sociology/Anthropology)
অনার্সে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে মনোবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সামাজিক আইন, দুর্য়োগ-ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সমস্যা বিশ্লেষণ,এনজিও, মানবাধিকার, সামাজিক নীতি, জনবিজ্ঞান, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, সামাজিক গবেষণা, পরিসংখ্যান ও কম্পিউটার বিষয়ে পড়ানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন কলেজে সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হয়।

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিসিএস ক্যাডারে যোগদান করা ছাড়াও দেশের ব্যাংক, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠন,বিভিন্ন প্রাইভেট ফার্ম, শিক্ষাকতা, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান গবেষক হিসেবে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকুরি লাভ করে থাকে।

সমাজকল্যাণ/ সমাজকর্ম
(Social Welfare/ Social Work)
সমাজকর্ম মূলত একটি পেশা। আমাদের দেশে এটি এখনও পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না হলেও বিদেশি এনজিও সহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠন ও সরকারি চাকুরির সুবিধা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে এমফিল এবং পিএইচডি করা যায়। বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিশেষ করে USA, UK Australia, Canada) সমাজকর্মের বিভিন্ন বিষয়ের উপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজে সমাজকল্যাণ পড়ানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এর নাম সমাজকর্ম।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (International Relation)
ঢাবি, জাবি, চবি-তে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে অনার্স কোর্স পড়ানো হয়। তবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত।
উপরোক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ হতে এ বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া USA, Canada, Australia ও Europe- এর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ আছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মালটিন্যশনাল কোম্পানী, মানবধিকার সংগঠন সমূহ, বিভিন্ন এনজিও, বিদেশি সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংগঠন ও পররাষ্ট্রবিষয়ক ক্ষেত্রে চাকুরির সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও
(ক) অনার্স ও মাস্টার্স প্রথম শ্রেণী প্রাপ্তির সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ রয়েছে ।
(খ) বিসিএস এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ প্রাপ্তির সুযোগ রয়েছে।

লোকপ্রশাসন (Public Administration)
ডিমান্ড সম্পর্কিত আলোচনায় লোকপ্রশাসনের ভবিষ্যৎ কি, তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। ভাল ও সুন্দর রেজাল্ট করলে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরির সুযোগ রয়েছে। লোকপ্রশাসনে বিসিএস ও সরকারি কর্ম-কমিশনে রয়েছে লোকপ্রশাসনের ছাত্রদের উজ্জ্বল সম্ভাবনা।

বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন মালটিন্যাশনাল কোম্পানী, মানবধিকার সংগঠন সমূহ, বিভিন্ন এনজিও, বিদেশি সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংগঠন ও প্রশাসন ক্ষেত্রে চাকুরির সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও
(ক) ভাল ফলাফল করার সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ।
(খ) বিসিএস এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ প্রাপ্তির সুযোগ রয়েছে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা
(Mass Communication & Journalism)
বর্তমানে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া যেভাবে বেড়ে চলেছে, সেই সাথে এই বিষয়ের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মিডিয়া একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। যে কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়টির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এটি মূলত ঢাকা, চট্রগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। এছাড়াও কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও এই বিষয়টি পড়ানো হচ্ছে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছাত্র জীবনেই চাকুরি পেয়ে যায় এবং বিশাল অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এই অভিজ্ঞতা পরবর্তি চাকুরি জীবনে কাজে লাগায়। এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিসিএস ক্যাডার হওয়া ছাড়াও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক হিসেবে এবং বিভিন্ন প্রাইভেট ফার্ম ও এনজিও গুলোতে চাকুরি লাভ করে থাকে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান
চাকুরির সুযোগ-সুবিধা
১। ভাল ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের মাধ্যমে সরকারি কলেজসমুহের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২। নির্দিষ্ট কোন কোটা না থাকলেও বিসিএস প্রশাসনসহ সাধারণ ক্যাডারে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ডিগ্রিধারীদেরকে চান্স পাওয়া সহজ।
৩। এছাড়াও বিভিন্ন এনজিও এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞার বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়ার ভাল সম্ভাবনা।

বাংলা (Bangla)
যেসব শিক্ষার্থী বাংলা ভাষা ও এর বিভিন্ন ধারা এবং আমাদের বাংলা ভাষার যে বিশাল সাহিত্য ভান্ডার রয়েছে তা জানতে এবং এই সমৃদ্ধ ভাষাটির ইতিহাস ‍ও ঐতিহ্য সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী তাদের কাছে এই বিষয়ের চাহিদা রয়েছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পর এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করা যায়।
এছাড়া ভারতসহ অন্যান্য কিছু দেশে এ বিষয়ের উপর উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ আছে।
এই বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হবার পর শিক্ষার্থীরা সাধারণত বিসিএস-এর মাধ্যমে চাকুরিতে যোগদান করে। এছড়াও বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুলের শিক্ষক হিসেবে, বিভিন্ন প্রাইভেট ফার্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যাংকের চাকুরিকে তারা পেশা হিসেবে গ্রহণ করে থাকে।

শান্তি ও সংঘর্ষ
(Peace & Conflict)
শান্তি ও সংঘর্ষ বাংলাদেশে একেবারেই নতুন একটি বিভাগ। যার ফলে এর চাহিদা এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। পরিবর্তনশীল বিশ্বে শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশেই এই বিভাগটি থাকার কারণে এবং একটি নতুন বিভাগ হবার কারণে দেশী ও বিদেশী শিক্ষার্থীদের মাঝে এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই এ বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে।


দেশে কোথাও মাস্টার্স এর পর উচ্চ শিক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই। তবে এশিয়ার বাইরে ইউরোপে এ বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
যেহেতু শান্তি ও সংঘর্ষ বাংলাদেশে একটি নতুন বিভাগ এবং এখন পর্যন্ত মাত্র দুইটি ব্যাচ এ বিভাগ থেকে পাস করেছে তাই চাকুরির ব্যাপারে কিছু বলা না গেলেও এ বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাকতা ছাড়াও বিসিএস ক্যাডার, গবেষক, বিভিন্ন এনজিওর কর্মকর্তা হিসেবে পেশা শুরু করতে পারে।

ইতিহাস (History)
ইতিহাস বিভাগে ইতিহাস ছাড়াও ইতিহাসের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও পড়ানো হয়। যেমন- রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, নৃবিজ্ঞান, দর্শন ইত্যাদি। তবে এসব বিষয়ে পূর্ণজ্ঞান না দিয়ে ইতিহাস সম্পর্কিত জ্ঞানই প্রদান করা হয়। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত যুগ ও কালের ঐতিহাসিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জ্ঞান প্রদান করা হয় ইতিহাসে।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেখানে এই বিষয় পড়ানো হয় সেখান থেকে মাস্টার্স এর পর এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করা যায়।
অন্যান্য বিভাগের মতো এই বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিসিএস-এর মাধ্যমে চাকুরিতে যোগ দিতে পারে। তাছাড়া স্কুল/ কলেজ/ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকতা, বেসরকারি সংস্থাতেও পেশা শুরু করতে পারে।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
(Islamic History & Culture)
যেসব শিক্ষার্থী মুসলিমদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও সমৃদ্ধ শিল্প-সাহিত্য, মুসলমানদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ‍মুসলমানদের দর্শন সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী তাদের কাছে এই বিষয়ের চাহিদা বয়েছে।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে যেখানে এই বিষয় পড়ানো হয় সেখানে থেকে মাস্টার্স এর পর এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করা যায়।
অন্যান্য বিভাগের মতো এই বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিসিএস-এর মাধ্যমে চাকুরিতে যোগ দিতে পারে। তাছাড়া স্কুল/ কলেজ/ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকতা, বেসরকারি সংস্থাতেও পেশা শুরু করতে পারে।

উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ
বর্তমানে সারা বিশ্বেই নারী অধিকার নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। জাতিসংঘ এবং এর অঙ্গ সংগঠনসমূহও এ ব্যাপারে বেশ সরব। তাছাড়া জতিসংঘ ঘোষিত MDG (মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল)এর ৮টি পয়েন্টের মধ্যে ১টি পয়েন্ট নারীদের নিয়ে, এছাড়াও অন্তত ২টি পয়েন্ট নারীদের সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং এই বিভাগের চাহিদা কিছুদিনের মধ্যে বেশ বৃদ্ধি পবে বলে আশা করা যায়।
এই বিষয়টি শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ে গত ৫ বছর ধরে পড়ানো হচ্ছে। এছাড়া উপমহাদেশের অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন করা যায় না।
দেশি-বিদেশি এনজিওগুলোতে জেন্ডার সংক্রান্ত আলাদা একটি বিভাগ থাকে, যেখানে মূলত এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা চাকুরি পায়। তাছাড়া এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‍বিসিএস-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডার এবং গবেষক ও শিক্ষক হিসেবে তাদের পেশা শুরু করতে পারে।

দর্শন (philosophy)
দর্শন একটি মৌলিক বিষয়। পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই এ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ইনস্টিটিউট বিদ্যামান । ‍
অন্যান্য বিভাগের মতো এই বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিসিএস-এর মাধ্যমে চাকুরিতে যোগ দিতে পারে। তাছাড়া স্কুল/কলেজ /বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা, বেসরকারি সংস্থাতেও পেশা শুরু করতে পারে ।

শিক্ষা ও গবেষণা
(Education & Research)
এ বিষয়ে শিক্ষার সম্যক ধারণা, শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পদ্ধতি, শিক্ষাক্রম তৈরি, সময়োপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা তৈরির জন্য গবেষণা, শিক্ষাবোর্ড, মন্ত্রণালয়, কারিকুলাম বোর্ড প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলী পভৃতি পড়ানো হয় ।
স্কলারশীপ এ বিষয়ে স্নাতক করে প্রতিবছর ৭/৮ জন শিক্ষার্থী মাস্টার্স করার জন্য বৃত্তি নিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পায়।
বিসিএস, বিসিএস একাডেমী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, শিক্ষা বোর্ড, পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, নায়েম, শিক্ষা অধিদপ্তর প্রভৃতি শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জেলা ও থানা শিক্ষা অফিসার, শিক্ষা নিয়ে কাজ করছে এমন বিভিন্ন NGO তে কাজ করার সুযোগ আছে ।
সম্ভাবনা
বাংলাদেশে শুধুমাত্র ঢাবিতে এ বিষয়ে অনার্সের সুযোগ থাকায় প্রয়োজনের তুলনায় জনশক্তি কম । তাই সহজে চাকুরি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে ।

(Arabic/Persian)

যেসব শিক্ষার্থী আরবী ও ফার্সী ভাষা ও এর বিভিন্ন ধারা এবং আরবী ও ফার্সি ভাষার যে বিশাল সাহিত্য ভান্ডার রয়েছে তা জানতে এবং এই সমৃদ্ধ ভাষাদ্বয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী তাদের কাছে এই বিষয় দুটির চাহিদা রয়েছে।
চাকুরি সুবিধা
এই বিভাগ থেকে উত্তির্ণ হবার পর শিক্ষার্থীর সাধারণত বিসিএস-এর মাধ্যমে চাকুরিতে যোগদান করে।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুলের শিক্ষক হিসেবে, বিভিন্ন প্রাইভেট ফার্ম,ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যাংকের চাকুরিকে তার পেশা হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। বিদেশেও এ ডিগ্রিধারীদের চাহিদা আছে।