পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি

করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য সিলেটের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে (সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২)  অস্থায়ী হাসপাতাল চালু করার প্রস্তাব দিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এমন প্রস্তাবনা সম্বলিত একটি চিঠি বুধবার (১০ জুন) সিটি কর্পোরেশনের প্যাডে সিলেট-১ আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরিফুল হক চৌধুরী উল্লেখ করেন, সিলেটে দ্রুত বেড়ে চলছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। করোনা চিকিৎসার জন্য এখনই পর্যাপ্ত হাসপাতাল প্রস্তুত করা প্রয়োজন। নতুবা আগামীতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

প্রস্তাবনায় মেয়র আরও উল্লেখ করেন, সরকার পুরনো এই কারাগারকে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারে সম্মত হলে রোগীর বেডসহ অন্যান্য জিনিসপত্র সিটি করপোরেশন থেকে সরবরাহ করা হবে। আর চিকিৎসকসহ আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতি সরকার থেকে সরবরাহ করতে পারবে।

এরফলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সিলেটের রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারবে ও বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসাজনিত সঙ্কট অনেকাংশেই মোকাবেলা করা সম্ভব হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন মেয়র।

এই কারাগারকে অধিগ্রহণ করে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানান মেয়র।

এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, সিলেটে রোগী যেভাবে বাড়ছে তাতে আর কিছুদিন পর শামসুদ্দিন হাসপাতালে রোগীর জায়গা হবে না। আর বেসরকারি হাসপাতালেও এই চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল। তাই এখনই বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে। এজন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এই প্রস্তাব পাঠিয়েছি। সিটি কর্পোরেশন থেকে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৭৮৯ সালে সিলেট নগরীর নয়াসড়কে ২৪ দশমিক ৬৭ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার।

নগরীর ভেতর থেকে কারাগার স্থানান্তরের লক্ষ্যে ২০১১ সালে আগস্টে নগরী থেকে ১২ কিলোমিটার দূরবর্তী সিলেট সদর উপজেলার বাদঘাটে ৩০ একর জমির উপর নতুন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেসময় সিলেট-১ আসনের সাংসদ ও তৎকালীন অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নতুন কারাগার নির্মিত হলে পুরনো কারাগারের জায়গায় উন্মুক্ত উদ্যান গড়ে তোলা হবে।

এরপর ২০১৮ সালে বাদাঘাটের নতুন কারাগার উদ্বোধন হয়। তবে পুরনো কারাগারের জায়গায় উদ্যান নির্মানের কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। বরং এটি এখন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ হিসেবে ব্যবহার করছে কারা কর্তৃপক্ষ।