সিলেটের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সৎপুর দারুল হাদীস কামিল মাদরাসার স্বনামধন্য উপাধ্যক্ষ, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, শায়খুল হাদীস মাওলানা ছালিক আহমদ ছাহেবের ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ দুলাল আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মুজতবা হাসান চৌধুরী নুমান।

নেতৃবৃন্দ এক শোক বার্তায় বলেন, শায়খুল হাদীস মাওলানা ছালিক আহমদ ছাহেব ছিলেন ইলমে হাদীস জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। দ্বীনের একজন মুবাল্লিগ হিসেবে তিনি ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সহীহ মতাদর্শ প্রচারে ছিলেন অগ্রগামী। ইলমে কুরআনের খেদমতে শায়খুল হাদীস ছাহেব জীবনভর নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। সুন্নীয়তের খেদমতে মহান এই দাঈ’র অবদান এ জাতি যুগ যুগ মনে রাখবে। তিনি ছিলেন আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর অত্যন্ত স্নেহভাজন। শায়খুল হাদীস ছাহেবের ইন্তেকালে আমরা হারিয়েছি আমাদের এক অভিভাবককে। প্রথিতযশা এ আলেমে দ্বীনের ইন্তেকালে দেশের ইসলামি অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে অপূরণীয় এক শূণ্যতার।

নেতৃবৃন্দ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং মরহুমের জন্য মহান আল্লাহর কাছে জান্নাতের উচ্চ মাকাম কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, শায়খুল হাদীস মাওলানা ছালিক আহমদ ছাহেব গতকাল ২৪ জুন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭ টায় সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

শাইখুল হাদিস মাওলানা ছালিক আহমদ সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ভূরকী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ধার্মিক পরিবারে ১৯৬৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা পীর আবুল লেইছ ছিলেন এলাকার একজন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৯০ সালে পার্শ্ববর্তী সৎপুর দারুল হাদীস কামিল মাদরাসা থেকে কৃতিত্বের সাথে শিক্ষাজীবন শেষ করে ১৯৯১ সাল থেকে শিক্ষকতা শুরু করেন। প্রথমে তিনি জকিগঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা ও ইছামতি কামিল মাদরাসায় দু’বছর আরবি প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতার পর পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে সৎপুর দারুল হাদীস কামিল মাদরাসায় আরবি প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি এ মাদরাসায় প্রভাষক, অধ্যাপক, মুহাদ্দিস সর্বশেষ ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত উপাধ্যক্ষ পদে দায়িত্বরত ছিলেন। দীর্ঘ এ সময়ে তিনি হাদিসে নববীর খিদমতের পাশাপাশী দ্বীনের একজন বিদগ্ধ মুবাল্লিগ হিসেবেও দেশ-বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। তিনি শুধু হাদিসে নববীর খিদমতেই ব্যাপৃত থাকেননি, ইলমে কিরাতের খিদমতেও তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। তিনি ১৯৮১ সালে হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর কাছ থেকে ইলমে কিরাতের সনদ লাভ করে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের খিদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি দারুল কিরাতের ভূরকী হাবিবিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসা শাখার দীর্ঘদিনের প্রধান ক্বারী ও নাযিম এবং প্রধান কেন্দ্রের পরীক্ষক ও পরিদর্শক হিসেবেও জীবনের শেষ অবধি কাজ করে গেছেন। মাওলানা ছালিক আহমদ (র.) ছিলেন একজন বিশিষ্ট আলিমে দ্বীন, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও ফকিহ ব্যক্তিত্ব। সীরতে-সুরতে, আমলে-আখলাকে সুন্নতে নববীর একজন যোগ্যতম উত্তরাধিকার।