চলমান২৪ঃ কতিপয় নাস্তিক আল্লাহ, রাসূল (স.) পবিত্র কুরআন-হাদীস ও ইসলামী তাহজিব- তামাদ্দুনের অবমাননা করে জঘণ্য আক্রমন করেছিল, ইসলাম, মুসলমান ও উলামা- মাশায়েখ, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং ইসলামী পোষাক (টুপি, দাড়ী, বোরকা ইত্যাদি) হেয়প্রতিপন্ন করার হীন চেষ্টা চালিয়েছিল এবং মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করার অপকৌশল চালিয়েছিল।

তখনই এদেশের সর্বস্থরের আলেম- উলামা, পীর- মাশায়েখ ও ধর্মপ্রান মুসলিম জনতা শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী দামাত বারাকাতুহুম এর নেতৃত্বে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ব্যানারে ৬ই এপ্রিল-২০১৩. ঢাকা অভিমূখে লংমার্চ ও ৫ই মে-২০১৩. ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছিল। সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ করে, রাস্তার মোড়ে-মোড়ে বাধার সষ্টি করেও মুসলিম জনতার ঈমানী স্পৃহা ঠেকাতে পারে নাই কোন অপশক্তি। কেন্দ্রীয় দুটি কর্মসূচীসহ সারাদেশে বিভাগ জেলা, উপজেলা সর্বত্র স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সভা-সমাবেশ, মিটিং, মিছিল হয়েছে।

কর্মসুচি গুলিতে হেফাজত কর্মীগন এতটাই শান্তিপুর্ন ছিল যে, সারাদেশে শতবাধা আক্রমন হামলা সত্যেও কোথাও সামান্য একটু আচরের নজির নাই। কিন্তু ৫ই মে লক্ষ লক্ষ নবী প্রেমিকদের শান্তিপুর্ণ ঢাকা অবরোধ ও শাপলা চত্বরে গনজমায়েতে বর্বরোচিত আক্রমন মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক।

সারাদিন ঢাকার চতূর দিকে অবস্থান নেয়া হেফাজত কর্মীরা যখন ক্ষুধা, পিপাসায় ক্লান্ত শরীরনিয়ে শাপলা চত্বরে জমায়েত তখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের জন্য সরবরাহকৃত খাবার ও পানির গাড়ি বন্ধ করে এবং সন্ধ্যা থেকেই বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাকান্ড চালিয়েছে নিরস্ত্র ঈমানদার নবী প্রেমিক ইসলামের সৈনিকদের উপর।

২০১৩ সালের ৫ মের শাপলা চত্বরের গণহত্যা চালিয়ে ইসলামের দ্বিতীয় কারবালা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তাদের জানা থাকা দরকার, আলেম ওলামাদের সাথে জুলুমের পরিনতি খুব ভয়াবহ। আল্লাহর ওলিদের বিরুদ্ধে যারা বিদ্বেষ পোষণ করে ও অন্যায় জুলুম করে, আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

২০১৩ সালে ৫ই মে ঢাকার শাপলা চত্বরে যারা রক্ত দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, তারা কেবল মহান আল্লাহ ও প্রিয় নবী (সা.) এর ভালবাসা নিয়ে ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। হেফাজতে ইসলাম যে মৌলিক দাবি নিয়ে সেদিন রাজ পথে রক্ত দিয়েছিল সে দাবি আজও পূরণ হয়নি। বরং কৌশলে এ ঈমানি আন্দোলন বন্ধ করার নানা চক্রান্ত অব্যাহত রয়েছে।

ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক-মুরতাদদের আস্ফালন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। কোনো আগ্রাসী অপশক্তির সামনে ওয়ারিছে আম্বিয়া আলেম সমাজ কখনোই মাথা নত করেনি। বর্তমানেও কোনো সামরাজ্যবাদী-ব্রাহ্মণ্যবাদী-আধিপত্যবাদী অপশক্তির তোয়াক্কা করে না। ইসলাম, মুসলমান, ঈমান-আক্বিদা, তাহজীব-তমদ্দুন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত আসলে তাঁরা জীবন বাজি রেখে শাহাদাতের তামান্না নিয়ে মোকাবেলা করতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

ঈমান রক্ষার আন্দোলনে যারা শাহাদত বরণ করেছেন ও আহত হয়ে পঙ্গু হয়েছেন তারা আমাদেরই ভাই, তাদেরকে আমরা ভুলে যেতে পারি না। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাংলার জমিনে একদিন ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডিন হবে ইনশাআল্লাহ। যারা সেদিন শাহাদাত বরণ করেছেন আমরা দোয়া করি আল্লাহ তাদের দারাজাত বলন্দ করুন। আর যারা আহত হয়েছেন আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, আমীন ।

যুগ্ম মহাসচিব : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
সহ-সভাপতি : জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।