চলমান২৪ঃঃ সায়েম ডাকলে তিনি

তক্ষুণি দেন পানা

তিনি আমাদের মাবুদ রাব্বানা।

সিয়াম সাধনা একজন মুমিনকে দেয় নতুন প্রশিক্ষণ। দেয় সামাজিক জীবনের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংশোধন, সাংস্কৃতিক সংস্করণ। সিয়াম সাধনা আমাদের ভেতরে মানবতা জাগ্রত করে। ফলে মানুষের আত্মায় হৃদ্যতা তৈরি হয়। একে অন্যের প্রতি যত্নবান হন। সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার, অরাজকতা দূর হয়। সামাজিক জীবনে মানবপ্রেম সৃষ্টি হয়। তাই রমজানের সিয়াম সাধনা মানবিক ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিয়াম সাধনায় যেমন আধ্যাত্মিক শিক্ষা রয়েছে, তেমনি সামাজিক গুরুত্বও রয়েছে।

মুসলিম বিশ্বে রমজানে অত্যন্ত আগ্রহ ও নিষ্ঠার সঙ্গে সিয়াম সাধনা করা হয়। সবাই একসঙ্গে আল্লাহর বিধান পালনে আগ্রহী হন। এ জন্যই মুসলিম জীবনে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। মানুষের মনে সুন্দর ও সুশোভিত জীবনের ব্রত চলে আসে। মানুষের মনে মানুষের জন্য প্রেম তৈরি হয়। একজনের দুঃখে অন্যজন দুঃখী হন। নবীজি (সা.) বলেন, ‘সে কখনও মুমিন হতে পারে না। যে পেট পুরে খায়, অথচ তার প্রতিবেশী উপোস থাকে।’ একজন সিয়াম সাধক সুবহে সাদিক থেকে সন্ধ্যা অবধি উপোস থাকেন। তখন তিনি অনুভব করেন অসহায় অনাহারী গরিবের দুঃখ। তার হৃদয়ে সৃষ্টি হয় মমতাবোধ। এজন্য নবীজি (সা.) মাহে রমজানকে সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মাস বলেছেন। এ মাসে এক সায়েম অন্য সায়েমের প্রতি ভালোবাসা দেখান। ইফতার করান। একে অন্যকে দাওয়াত করেন। জাকাত দেন, ফিতরা আদায় করেন। এভাবে সমাজে হৃদ্যতা চাষ হয়। মানবিক ফসল ফলে।

ইসলাম মানুষকে স্বার্থপরতা ত্যাগ করতে শেখায়। সমাজের প্রতি মানুষকে দায়িত্বের পথ দেখায়। সমাজের অন্যকে নিয়ে ভাবায়। অন্যের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করে। অন্যের জন্য অর্থ জোগায়। সমাজের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেয়। এগুলোই সিয়ামের প্রেরণা। মাহে রমজানে মানুষ এ প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হন। তখন একজন সিয়াম সাধক অন্য ব্যক্তির কল্যাণে এগিয়ে আসেন। একে অপরের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করেন। কেউ দান করেন, কেউ তা গ্রহণ করেন। নিজের জন্য যা পছন্দ করেন, অন্যের জন্যও তা করতে ভালোবাসেন।

সিয়াম সাধনার ফলে মানুষের মন সংযমী হয়। যার প্রভাবে সমাজ থেকে সব ধরনের লোভ-লালসা দূর হয়। হিংসা বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে একে অপরকে ভালোবাসেন। প্রতিশ্রুতি ও আমানত রক্ষা করেন। তখন সমাজের কারও মনে শঙ্কা থাকে না। নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন না। কারণ একজন প্রকৃত সিয়াম সাধক কখনই কারও ক্ষতি করতে পারেন না। মিথ্যা বলতে পারেন না। কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেন না। তখন সমাজে থাকে না- কোনো দুর্নীতি, অরাজকতা-অনাচার কিংবা অন্যায় কোনো ব্যবহার। একজন সিয়াম সাধক গোটা সমাজের জন্য কল্যাণকামী হন। মাহে রমজানে প্রতিজ্ঞা হোক সুন্দর সমাজ গড়ব আমরা। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিন।

লেখক : হাফেজ, মাওলানা, মুফতি; লেখক ও গবেষক ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ