22 C
Dhaka
Wednesday, January 20, 2021

যেভাবে লিবিয়ায় প্রাণ গেল ২৬ বাংলাদেশির

- Advertisement -
- Advertisement -

প্রবাসঃ  লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশি মানব পাচারকারী চক্রের কাছ থেকে অপহৃত হওয়ার পর অপহরণকারীদের হাতে খুন হয়েছেন বলে জানিয়েছে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস।

যদিও লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, লিবিয়ার এক মানব পাচারকারীকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ২৬ জন বাংলাদেশিসহ ৩০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে হত্যা করেছে ওই পাচারকারীর পরিবারের সদস্যরা। বাংলাদেশি ছাড়াও এতে মারা যান ৪ জন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। খবর বিবিসির।

হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এক আহত বাংলাদেশির বক্তব্যের ভিত্তিতে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কাউন্সিলর আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মারা যাওয়া ২৬ জনসহ মোট ৩৮ জন বাংলাদেশি ও কয়েকজন সুদানি নাগরিক প্রায় ১৫ দিন ধরে ওই অপহরণকারী চক্রের হাতে আটক ছিলেন।

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মিজদায় আটক করে রাখা হয়েছিল তাদের। সেখানেই ২৮শে মে সকালে বন্দীদের ওপর গুলি চালায় অপহরণকারীরা।

মূলত ইতালিতে অভিবাসনের উদ্দেশ্যে ওই ৩৮ জন বাংলাদেশি লিবিয়ায় গিয়েছিলেন বলে জানান আশরাফুল ইসলাম। করোনাভাইরাস সংক্রান্ত জটিলতা শুরু হওয়ার আগে ডিসেম্বর মাসে তারা দালালের মাধ্যমে ভারত ও দুবাই হয়ে বেনগাজি বিমানবন্দরে পৌঁছান।

এরপর গত কয়েক মাস তাদেরকে লিবিয়ার ভেতরে গোপনে রাখা হয়েছিল। উপকূলীয় অঞ্চল যুওয়ারা হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অভিবাসীদের নিয়ে ইতালির দিকে যাত্রা করার পরিকল্পনা ছিল পাচারকারীদের।

আশরাফুল ইসলাম জানান, বছরের এই সময়টায় সাগর অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকায় এটিকেই সাগর পাড়ি দেয়ার আদর্শ সময় বলে মনে করা হয়। কিন্তু প্রচলিত পথে না গিয়ে মরুভূমির মধ্যে দিয়ে বেশ বিপদসংকুল একটি পথে তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

তিনি বলেন, যুদ্ধকবলিত লিবিয়ায় একাধিক সরকার থাকায় ত্রিপলি হয়ে যুওয়ারা যাওয়ার প্রচলিত পথে নানা রকম তল্লাশি হয়। সেই পথ এড়িয়ে কম ব্যবহৃত মরুভূমির মধ্যকার রাস্তা দিয়ে অভিবাসীদের নিয়ে যুওয়ারা যাচ্ছিলেন পাচারকারীরা।

কিন্তু ওই মরুভূমির পথ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণাধীন, যারা সরকারহীনতার সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে অনেকদিন ধরে। সন্ত্রাসী ও অপহরণকারীদের একাধিক গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের ঘটনাও ঘটে থাকে।

বেনগাজি থেকে মরুভূমির রাস্তায় যুওয়ারা যাওয়ার পথে তারা অপহরণকারীদের কবলে পড়েন। অপহরণের পর মিজদাতেই প্রায় ১৫ দিন অপহরণকারীদের জিম্মায় ছিলেন অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশি ও সুদানি নাগরিকরা।

অপহরণকারীদের সঙ্গে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তিপণ নিয়ে দর কষাকষি চলছিল। আটককৃতদের অনেকেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কাঙ্ক্ষিত মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হয় তারা। মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আাটককৃতদের ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে অপহরণকারীরা।

এক পর্যায়ে বাংলাদেশিদের সঙ্গে থাকা সুদানি নাগরিকরা অপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকে মেরে ফেলেন। এরপর অপহরণকারীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে ৩৮ জন বাংলাদেশির সবাই গুলিবিদ্ধ হয়। মারা যায় ২৬ জন।

গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় কয়েকজন ভিতরেই পড়ে ছিল, দুই-একজন আহত অবস্থায় বের হয়ে আসে। তাদের দেখে স্থানীয় লোকজন সেনাবাহিনীকে খবর দেয় এবং সেনাবাহিনী তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে।

আশরাফুল ইসলাম জানান, আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে লিবিয়ার সংবাদমাধ্যম আল-ওয়াসাত খবর প্রকাশ করেছে, মোহাম্মদ আব্দুল রহমান, যিনি একজন মানব পাচারকারী হিসেবে পরিচিত, অজানা কারণে শুরু হওয়া এক ‘বিদ্রোহে’ মারা যান। এরপর তার পরিবারের সদস্যরা ওই ভবনটি ঘেরাও করে এবং মরদেহ ফিরে পাওয়ার জন্য আলোচনা শুরু করে।

এক পর্যায়ে ওই ভবনে উপস্থিত ১০০ জন অভিবাসী আত্মসমর্পণ করেন, কিন্তু ৪০ জন ভবন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। এরপরই ওই ভবনে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও রকেট দিয়ে হামলা করার পর ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা নিহত হন। তবে অন্য কোন সূত্র থেকে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

২০১১ সালে পশ্চিমা সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন হওয়ার পর থেকে লিবিয়ায় চলছে সীমাহীন নৈরাজ্য এবং অরাজকতা। লিবিয়ায় নানা মত ও পথের অসংখ্য সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনী তৎপর।

দেশের পূর্বে এবং পশ্চিমে রয়েছে দুটো ভিন্ন রাজনৈতিক শাসন কেন্দ্র। কিছু মিলিশিয়া দল পূর্বের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুগত, কিছু আবার সমর্থন করে পশ্চিমের অর্থাৎ ত্রিপলি নিয়ন্ত্রণকারী প্রশাসনকে।

লিবিয়াতে এখন যার হাতে যত বেশি অস্ত্র , তার শক্তি এবং প্রভাবও তত বেশি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন লিবিয়া এখন অস্ত্রের বাজারে পরিণত হয়েছে।
আর অস্ত্রের সহজলভ্যতার কারণে পুরো দেশেই বিভিন্নপন্থী ছোট ছোট মিলিশিয়া গ্রুপ তৈরি হয়েছে।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, এখানে অপহরণকারী চক্র খুবই শক্তিশালী। তারা এখানে সেনাবাহিনীর সঙ্গেও কখনো কখনো মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং মাঝেমধ্যে সেনাবাহিনীও পিছু হটতে বাধ্য হয়।

- Advertisement -

Latest news

হতাশ হয়ে পাকিস্তানে ফেরত যাচ্ছেন নাগরিকত্বের আশায় ভারতে আসা হিন্দু ও শিখরা!

আশাহত হয়ে পাকিস্তান ফিরে যাচ্ছেন মোদি সরকারের আমলে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু ও শিখ শরণার্থীরা। করোনার কারণে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও...
- Advertisement -

যে গাছগুলোতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

যেসব গাছের এক বা একাধিক অংশ প্রাণীদের ক্ষেত্রে দরকারি ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে ঔষধি গাছ বলে। গাছ যদি হয় বিভিন্ন রোগের ওষুধ, তখন...

হাজার কোটি টাকা দিলেও আর হিজাব ছাড়ব না : হালিমা ইডেন

ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে আপস করার জন্য চাপ অনুভব করার প্রেক্ষাপটে মুসলিম মডেল হালিমা ইডেন ফ্যাশন শো থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার ২৩ বছর...

ধর্ষকদের শাস্তি পুরুষাঙ্গ অকেজো, ইমরান খানের অনুমোদন!

ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড এবং রাসায়ানিক প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ অকেজো (খোজাকরণ) করে দেয়ার বিধান রেখে দুটি অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ। মঙ্গলবার...

Related news

হতাশ হয়ে পাকিস্তানে ফেরত যাচ্ছেন নাগরিকত্বের আশায় ভারতে আসা হিন্দু ও শিখরা!

আশাহত হয়ে পাকিস্তান ফিরে যাচ্ছেন মোদি সরকারের আমলে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু ও শিখ শরণার্থীরা। করোনার কারণে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও...

যে গাছগুলোতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

যেসব গাছের এক বা একাধিক অংশ প্রাণীদের ক্ষেত্রে দরকারি ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে ঔষধি গাছ বলে। গাছ যদি হয় বিভিন্ন রোগের ওষুধ, তখন...

হাজার কোটি টাকা দিলেও আর হিজাব ছাড়ব না : হালিমা ইডেন

ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে আপস করার জন্য চাপ অনুভব করার প্রেক্ষাপটে মুসলিম মডেল হালিমা ইডেন ফ্যাশন শো থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার ২৩ বছর...

ধর্ষকদের শাস্তি পুরুষাঙ্গ অকেজো, ইমরান খানের অনুমোদন!

ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড এবং রাসায়ানিক প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ অকেজো (খোজাকরণ) করে দেয়ার বিধান রেখে দুটি অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ। মঙ্গলবার...
- Advertisement -