সাত দিন যাবৎ খোকা পেটে খায়নি কোন খাবার,
নাই যে মুখে রুচি তার জ্বরের সমাচার ।।

সর্দি কাশি হাঁচি আর কাশে খুক খুক,
গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা হলো কি যে অসুখ ??

পাড়ার লোকে বলে সবে ধরেছে বুঝি করোনায়,
প্রাণ বাঁচাতে প্রাণের বিবি ছেড়ে তারে পালায় ।।

ছেলে মেয়েও ভয় পেয়ে তাই বাবাই ছেড়ে পালায়,
প্রতিবেশীরাও দূরে সরে ঘৃণা করে সবাই ।।

থানা থেকে পুলিশ এনে লকডাউনে তাই,
রাখলো তারে বন্দী ঘরে পাশে কেহ নাই ।।

মরার তরে খোকা একা ছট পটিয়ে যায়,
মা জননী কেঁদে বলে কি হলো রে খোকায় ??

খোকা বলে মাগো আমায় ধরেছে করোনায়,
আর থেকো না আমার কাছে বাঁচন তোমার চাই।।

সবাই মাগো চলে গেলো তুমি কেন পাশে ?
মাগো তুমি থাকলে বেঁচে সুখ পাবো যে শেষে ।।

আমার কথা আর ভেবোনা যাওনা দূরে চলে,
যা লিখেছেন তাই তো হবে বিধি কপালে ।।

মা কেঁদে বলে মরতে হলে মরবো তোকে নিয়ে,
তোকে ছাড়া বাঁচবো আমি কোন খানেতে গিয়ে ??

সবাই গেলেও তোকে আমি রাখবো বুকে নিয়ে,
করোনা তখন পালিয়ে যাবে আমায় ভয় পেয়ে ।।

সিজদারত হয়ে মায়ে কাঁদে জারে জার,
আল্লাহ তুমি আমায় নিয়ে বাঁচাও জীবন খোকার ।।

আমার যত আয়ু তুমি দাও খোকাকে আমার,
এই জীবনে বাঁচতে আমি চাই না কভু আর ।।

আমার বুকের মানিক বেঁচে থাকুক ভূবন পরে,
তাতেই সুখ টা পাবো আমি গিয়েও কবরে ।।

মায়ের দোয়ায় খোদার দয়ায় বাঁচলো খোকার জান ,
মায়ের দোয়া কবুল করে খোদা ফিরিয়ে দিলেন প্রাণ ।।

মা-ই থাকেন সারাজীবন সন্তানেরই পাশে,
স্বজন প্রিয়তমা যতুই যাক না ভালোবেসে ।।

এই ভুবনে মা ছাড়া নাইরে কেহ আপন,
মা ছাড়া শূন্য জীবন, শূন্য বিশ্ব ভুবন ।।