চলমান২৪ ডেস্ক:: শতকরা ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশ পীর আউলিয়ার আমাদের জন্মভূমি। মুসলমান ভাইদের জন্য এই ১০ টি দিন ইবাদাতের জন্য সুবর্ণ সুযোগ। তাছাড়া রমজান অত্যাসন্ন। “আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রাজাবা ওয়া শা’বান ওয়া বাল্লিগনা রামাজান।”
১মাস পরই রমজান আসবে। রমজানের যথাযত ফয়েজ পেতে হলে আগ থেকেই প্রিপারেশান নেয়া মুমিনদের কাজ।

১. এই ১০ দিনে কমপক্ষে ৩ খতম কুরআন যাতে পড়তে পারি– চেষ্টা শুরু করি। নেকীর আমলনামা বেড়ে যাবে।

২. বেশী বেশী দুরুদ পাঠ করি। হাশরের ময়দানে হুজুর সা. এর শাফায়াত লাভ সহজ হবে।

৩. ইস্তেগফার তো দুনিয়া আখেরাতের কল্যাণকামী।
হাদীস শরীফে এসেছে, যদি কোন ব্যক্তি ইস্তেগফার রেগুলার করে নেয়, তাহলে রিজেকের ফায়সালা আল্লাহর হাতে। এমন এক জায়গা থেকে ব্যবস্তা হয়ে যাবে– যা তার কল্পনারও বাইরে ছিলো।

৪. জামাতের সাথে (তাকবিরে উলা যাতে মিস না হয়) ৮ দিনে কমপক্ষে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে দেখুন। আল্লাহর কসম, আপনার জীবন উজালা হয়ে যাবে। আর নামাজ শেষে মসজিদে যখন মুসল্লীর সংখ্যা কমে যাবে তখন অতিরিক্ত ২ রাকাত নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে হাত তুলে দুনিয়ার সকল মুসলমানের হেদায়াতও নিরাপত্তার জন্য ইনিয়ে বিনিয়ে মোনাজাত করি। আল্লাহর সাহায্য আসবেই।

৫. বাড়ীতে আপনার বাবা- মার খেদমতে এই ১০ টি দিন উজাড় করে দিন। দেখবেন সফলতা আপনার পদচুম্বন করছে।

৬. যখন ভালো লাগেনা তখন ইসলামী স্কলারদের ভালো বইগুলো পড়তে অভ্যস্ত হোন। দেখবেন সভা সমিতিতে রেফারেন্সের সহায়ক হবে। তাও ভালো না লাগলে–

৭. মোবাইল হাতে নিয়ে ঘনিষ্ট আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীর হালপুরসী করুন। মন চাঙ্গা হবে।

৮. যাদের বাসা বাড়ীতে গাছ আছে, সেগুলোর পরিচর্যা করুন। ছওয়াব তো পাবেনই, বোনাস হিসেবে মন থাকবে ফ্রেশ।

৯. ছাত্র ছাত্রী ভাইবোনের উদ্দেশ্যে অনুরোধ– এই ১০ টি দিনকে নিয়ামত মনে করে দয়া করে ফেইসবুক থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। ক্লাসের পড়াতো পড়বেনই, যখন বিরক্তি অনুভব করবেন তখন বিভিন্ন ভাষার জ্ঞানের ভান্ডার আয়ত্ব করতে সচেষ্ট হোন। কমপক্ষে ইংরেজী ও আরবী ভাষায় পারদর্শী হতে পণ করুন।ভাষায় পারদর্শী হলে সমাজে আপনার কদর বেড়ে যাবে। আর সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পেলে দ্বীন সম্পর্কে আপনার নছিহত সহজে কবুল করবে।

১০. বাড়ীর একেবারে সন্নিকটে কবরস্থান হলে প্রতিদিন কমহলেও একবার মুরদেগানদের রুহের মাগফিরাতের জন্য জিয়ারত করে কমবেশী সূরায়ে ফাতেহা, এখলাস ও দুরুদ শরীফ পাঠ করে আসুন। আপনার আমার মৃত্যুর পর নেক্সট জেনারেশন আমার কবরও জিয়ারত করবে।

১১. এশার নামাজের একটু পরেই খাবার ডাইজেস্ট হয়ে গেলে বেডে যাওয়ার চেষ্টা করি। যাতে এই ১০ দিনে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে তাহাজ্জুদকে নিজের জীবন সঙ্গী বানিয়ে দিতে পারি। তাতে মাখলুকের কাছে হাত পাতার অভ্যাস বন্ধ হয়ে সরাসরি আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তৈরী হবে। এটাইতো প্রত্যেক মুমিনের মূল মাকসাদ হওয়া চাই। শেষ রাতে করোনার মালিকের কাছে দু’ হাত তুলে চোখের পানি ফেলতে পারলে করোনা কেন তার চেয়েও বড় আজাব আমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা ইনশাআল্লাহ। আর শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠে জায়নামাজে অন্তর নিঃসৃত দু’ ফুটো পানি মাওলার কাছে খুবই প্রিয়। লেখক: এড. মাওঃ শাহীনূর পাশা চৌধুরী, সাবেক এমপি -৩