28 C
Dhaka
Monday, June 14, 2021

পাস মার্ক ৪০! পাবলিক পরীক্ষার বর্তমান নিয়ম।

- Advertisement -
- Advertisement -

পাবলিক পরীক্ষায় পূর্ণমান ১০০-এর বিপরীতে পাস নম্বর নির্ধারণ করা হচ্ছে ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৪০। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে পাবলিক পরীক্ষাল ফল প্রকাশের পদ্ধতিতেও আনা হচ্ছে পরিবর্তন। বর্তমান গ্রেডিং সিস্টেম যুগোপযোগী করে সর্বোচ্চ ফল (গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ-জিপিএ) ৫ এর পরিবর্তে ৪ নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ‘এ প্লাস’ বলতে কিছু থাকবে না। পরীক্ষার ফলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সমতা রাখতেই এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা এটি নিয়ে কাজ করছেন বর্তমানে। আগামী ২৬ জুন এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পেশ করবেন তারা। গত ১২ জুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির উপস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সব শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানই উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ সমকালকে বলেন, ‘সভায় পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

সভা সূত্র জানায়, পাবলিক পরীক্ষার পাস নম্বর ও ফল প্রকাশ নিয়ে সভায় বিশদ আলোচনা হয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সভায় বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবাই জিপিএ ৫ এর জন্য ছুটছে। অথচ পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই জিপিএ ৪ এর মধ্যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি এ বিষয়টি ভেবে দেখার আহ্বান জানান। এর পরই এ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।

আগামী ২৬ জুন আবারও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর সভা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান কয়েকজন বোর্ড চেয়ারম্যান।

পাস নম্বর বাড়ানোর ভাবনা কেন- জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, ‘শিক্ষার মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠায় মূলত এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে বলার চেষ্টা করে হচ্ছে- দেশে শিক্ষার মান পড়ে যাচ্ছে। তবে এ তথ্য সঠিক নয় বলেই সরকার মনে করে। এ জন্য পাস নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া পৃথিবীর বহু উন্নত দেশে পাস নম্বর ৪০ নির্ধারিত রয়েছে।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ২০০১ সাল থেকে পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেডিং সিস্টেম চালু করা হয়। এ পদ্ধতি চালুর পর থেকে প্রতি বছর পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার বাড়ছে। পাশাপাশি নতুন সৃজনশীল প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন ব্যবস্থায় উত্তরপত্রে শিক্ষকদের নম্বর দেওয়ার প্রবণতাও আগের থেকে বেড়েছে। পরীক্ষার্থীরা এখন পরীক্ষায় আগের থেকে বেশি নম্বর পাচ্ছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০ করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিষয়টি এখনও চিন্তা-ভাবনার মধ্যে থাকলেও এ বিষয়ে সংশ্নিষ্টরা সবাই ইতিবাচক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের ভাবনায় রয়েছে। শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনা আমাদের আছে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসএসসি, এইচএসসি, জেএসসি ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার প্রতি বছর বাড়ছে। কিন্তু শিক্ষাসংশ্নিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করে আসছেন, পাসের হার ও জিপিএ ৫ বাড়লেও শিক্ষার মান সেই অর্থে বাড়ছে না। এসব কারণে গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষাসংশ্নিষ্ট ব্যক্তিরা নানা ধরনের প্রশ্ন তুলে আসছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০১ সালে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হয়। সেখানে ৮০ থেকে ১০০ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ধরা হয় ৫। লেটার গ্রেড এ প্লাস। এটিই সর্বোচ্চ গ্রেড। এবার এই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন গ্রেডিং পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ গ্রেড হবে ৪। যার নম্বর হবে ৯৫ থেকে ১০০। এ পদ্ধতিতে লেটার গ্রেডে এ প্লাস বলতে কিছু থাকবে না। প্রতি পাঁচ নম্বরের মধ্যে থাকবে দশমিক ১ গ্রেড। পাস নম্বর হবে ৪০। এ বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (জেএসসি) থেকেই এ পদ্ধতি কার্যকর করা হতে পারে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক সমকালকে বলেন, ‘নতুন পদ্ধতিতেও সিজিপিএ নয়, জিপিএতেই ফল প্রকাশ করা হবে। সর্বোচ্চ গ্রেড হবে ৪। চলতি বছরের জেএসসি থেকে তা কার্যকর করার কথা ভাবা হচ্ছে। এর পর ২০২০ সালের এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের পরীক্ষাসহ সব পাবলিক পরীক্ষাতেই এ পদ্ধতি কার্যকর হবে।’ এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সব মান ও দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে অর্থাৎ সব প্রতিষ্ঠান যেন তার ফলটা একটি অভিন্ন পদ্ধতিতে প্রণয়ন করতে পারে।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল আলীম সমকালকে বলেন, ‘বর্তমান পদ্ধতির পরিবর্তন খুব জরুরি। এমসিকিউ, সিকিউ ও সৃজনশীল মিলে একই বিষয়ে তিনজন পরীক্ষক তিন রকম নম্বর দিচ্ছেন। তা যোগ হয়ে ফল তৈরি হচ্ছে। এটি সঠিক নয়। একটি গ্রেড পয়েন্ট থেকে অপর পয়েন্টের মধ্যে নম্বরের পার্থক্য খুব বেশি থাকায়

- Advertisement -

Latest news

ভূমিকম্প : ইসলাম কী বলে? মারজান আহমদ চৌধুরী, ফুলতলী

আজ সকাল থেকে আমরা, সিলেটের বাসিন্দারা লাগাতার ভূমিকম্প অনুভব করছি। মানুষ আতঙ্কিত। অনেকে প্রশ্ন করছেন, এসব ছোট ছোট ভূমিকম্প কি বড় ভূমিকম্পের...
- Advertisement -

কিছুক্ষণ পরপর ভূমিকম্পে কাপতেছে সিলেট!

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় বার মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো সিলেট নগরী। এত অল্প সময়ে এতবার কম্পন অনুভূত হওয়ায় নগরীতে বিরাজ করছে আতঙ্ক।

শীতের কম্বল গােডাউনে, গরিবের চাল খাচ্ছে পােকা-ইঁদুর

পিরােজপুরের স্বরূপকাঠির বলদিয়া ইউনিয়নে ত্রাণের শীতের কম্বল আজও বিতরণ করা হয়নি। দুই বছর ধরে পরিষদের গোডাউনে পড়ে থাকা ভিজিডি, ভিজিএফের চাল খাচ্ছে ইঁদুর আর...

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি? কতটা বিপজ্জনক? জেনে নিন বিস্তারিত

করোনা মহামারীর মধ্যেই নতুন বিপত্তি মিউকরমাইকোসিস (Mucormycosis) বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (Black Fungus)। বিভিন্ন রাজ্যে ইতিমধ্যেই দেখা দিয়েছে এই ছত্রাকের সংক্রমণ। ফলে নতুন...

Related news

ভূমিকম্প : ইসলাম কী বলে? মারজান আহমদ চৌধুরী, ফুলতলী

আজ সকাল থেকে আমরা, সিলেটের বাসিন্দারা লাগাতার ভূমিকম্প অনুভব করছি। মানুষ আতঙ্কিত। অনেকে প্রশ্ন করছেন, এসব ছোট ছোট ভূমিকম্প কি বড় ভূমিকম্পের...

কিছুক্ষণ পরপর ভূমিকম্পে কাপতেছে সিলেট!

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় বার মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো সিলেট নগরী। এত অল্প সময়ে এতবার কম্পন অনুভূত হওয়ায় নগরীতে বিরাজ করছে আতঙ্ক।

শীতের কম্বল গােডাউনে, গরিবের চাল খাচ্ছে পােকা-ইঁদুর

পিরােজপুরের স্বরূপকাঠির বলদিয়া ইউনিয়নে ত্রাণের শীতের কম্বল আজও বিতরণ করা হয়নি। দুই বছর ধরে পরিষদের গোডাউনে পড়ে থাকা ভিজিডি, ভিজিএফের চাল খাচ্ছে ইঁদুর আর...

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি? কতটা বিপজ্জনক? জেনে নিন বিস্তারিত

করোনা মহামারীর মধ্যেই নতুন বিপত্তি মিউকরমাইকোসিস (Mucormycosis) বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (Black Fungus)। বিভিন্ন রাজ্যে ইতিমধ্যেই দেখা দিয়েছে এই ছত্রাকের সংক্রমণ। ফলে নতুন...
- Advertisement -