ছাতক উপজেলাধীন গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বুড়াইর গাও গ্রামের জননী পোল্ট্রি খামারের সকল মুরুগ হঠাৎ করেই মরে যাওয়ায় মিশ্র পরিক্রিয়া দেয়া দিয়েছে। সঠিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছেনা যে, কি কারণে সকল মুরুগ মরে গিয়েছে।

পোল্ট্রি খামারের মালিক বুড়াইর গাও গ্রামের হাজী ফজর আলীর ছেলে জনাব আলা উদ্দিন জানান যে, আমি গতকাল রাত্রে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী খামারের মুরুগ দেখাশুনা শেষে চলে যাই, সকালে আমি ও আমার ফার্মের লেবার খামারে দেখাশুনা শেষে খাবার খেতে যাই, অতঃপর আনুমানিক ১০ ঘটিকার সময় মুরগিকে খাবার দিতে গেলে দেখি যে আমার খামারের সকল মুরুগ মরে গেছে।
হঠাৎ সকল মুরুগ মরে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে জনাব আলাউদ্দিন জানান যে, আমার ধারণা হচ্ছে , বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে মুরুগ মারা হয়েছে। কে এই কাজ করতে পারে জানতে চাইলে তিনি কারো নাম উল্লেখ করেন নি।
জানা যায় গত ৯বছর আগে ৬৪শতাংশ জমিতে ৪ টি খামার ঘর তৈরি করে মুরুগের খামার প্রতিষ্ঠা করেন তিনি । বিগত করোনাকালিন সময়ে ৫ হাজার ব্রয়লার মুরগী বিক্রি করলেও প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা এবং বন্যাকালীন সময়ে সোনালী মুরুগেও প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা লোকসান হয়, এরই মধ্যে মুরগির বাচ্চা অবমুক্ত করার ২ দিন পরেই সকল বাচ্চা মারা যাওয়ায় হতাশ ওই ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী।
বিভাগীয় পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের সদস্যরা বলেছেন যে, প্রকৃত কারণ বা অপরাধী  শনাক্ত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ছাতক উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জনাব আলংগির হোসেনকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করলে তিনি ল্যাবে টেস্ট করানোর পরামর্শ দেন।
নারিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারি লিঃ এর ডাঃ সেলিম সাহেব জানান, হ্যাচারিগত কোন সমস্যা থাকতে পারে বলে ধারণা করেন।
সুগুনা ফুড এন্ড ফিড বাংলাদেশ লিঃ এর ডাঃ আব্দুল হাই ধারণা করেন যে, অতি বৃষ্টির সাথে আশেপাশে বজ্রপাত বা বজ্রের আওয়াজের কারণে বাচ্চা মারা যেতে পারে।
সাবেক চেয়ারম্যান জনাব নিজাম উদ্দিন সরেজমিনে খামারে এসে ঘটনা দেখে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য সুরেতাজ মিয়া জানান, খবর পেয়ে সকালেই ওই খামারে ছুটে যাই। লক্ষাধিক টাকার মুরগী মারা যাওয়ার দৃশ্য দেখে আমি  বিষ্মিত হয়েছি।
মৃত মুরগিগুলোকে ইতিমধ্যে মাটিতে পুতে দেয়া হয়েছে।
খামারের মালিক ও বিশেষজ্ঞদের ভিন্ন ভিন্ন মতামতের কারণে এখনো নিশ্চিত কারণ জানতে না পারায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেয়া দিয়েছে তবে ল্যাবে টেস্ট করানোর পর সঠিক কারণ জানতে পারা যাবে।