চলমান২৪:: সিটি কর্পোরেশনের সুইপার যখন কুরআনে হাফেজ মসজিদের ইমামের চেয়ে দু’চারগুণ বেশী বেতন পায়, তখন কিন্তু কোন সাংবাদিক হেডলাইনে লেখেনা,
“দেশটা সুইপারদের,মসজিদের ইমামদের না।”
.
ফ্রী বই পেয়ে , ফ্রী টিফিন খেয়ে সরকারী স্কুলে পড়া আমার বাল্যবন্ধুটা যখন
ঈদের ছুটি পেয়ে শপিং আর গরু কেনায় মাতোয়ারা, তখন আমি শহরের দেয়ালগুলোতে কুরবাণীর চামড়া মাদরাসায় দানের “আকুল আবেদন” পোস্টার সেঁটে চলেছি।
.
তারপর যখন ঈদের দিন- আমার সেই বন্ধুটা মায়ের হাতের সেমাই-পিঠা খেয়ে নতুন কাপড় গায়ে বাবার সাথে ঈদের নামাজ সেরে নিজেদের কুরবাণী দিত;
তখন আমি আমার বাড়ির কুরবাণী ফেলে ঢাকার অলিগলিতে ঘুরছি বাবার টাকায় বেতন দিয়ে পড়া মাদরাসার কুরবাণীর গরুর চামড়া কালেকশনের জন্য।
.
সংবাদ সংগ্রহ করছে এরকম বহু মিডিয়া চোখে পড়তো।
কই?
কেউতো কোনদিন আমাকে নিয়ে রিপোর্ট করলনা,
“দেশটা স্কুল ছাত্রদের, মাদরাসা ছাত্রদের না।”
.
হিফজুল কুরআন প্রতিযোগীতায় ছোট ছোট হাফেজে ক্বুরআনরা বরাবরই বিশ্বের দরবারে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করে ফিরেছে, কই কখনো তো ক্রিকেট চ্যাম্পদের মত ওয়াটার স্যালুট পেলনা তারা।
.
এটা নিয়ে তো কোন মিডিয়া কোনদিন বললো না,
“দেশটা ক্রিকেটারদের, হাফেজে ক্বুরআনদের না।”
.
১৮ বছর লেখাপড়া করে হাফেজ+ মাওলানা+মুফতি হওয়া মাদরাসা শিক্ষকের বেতন ৪ অংক ছাড়ায়না, অথচ ১৮ বছর লেখাপড়া করা আরেকজন সরকারী কর্মকর্তার ড্রাইভারের প্রথম স্কেলই ৫ অংকের হয়।
তখন কেউ বলেনা,
“দেশটা জেনারেল শিক্ষিতদের, মৌলানাদের না।”
.
একই বয়সে লেখাপড়া শুরু এবং শেষ করা একজন স্কুল শিক্ষক যখন আরামসে মাস শেষে বেতন গুণে, অপরদিকে একজন মাদরাসা শিক্ষক গোরাবা ফান্ডের কালেকশনে ব্যস্ত, কারণ মাদরাসা কমিটি সেই টাকা থেকে হুজুরের বেতন দিবে।
.
তখন কেউ প্রশ্ন রাখেনা,
“দেশটা কি শুধুই জেনারেল শিক্ষিতদের?”
.
ভার্সিটির ডাইনিংয়ে সরকার যখন বছরে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়, আর দেশের কওমী মাদরাসার বোর্ডিংগুলোতে একটা টাকাও দেয়না,তখন কেউ জিজ্ঞেস করেনা,
“দেশটা কি শুধুই ভার্সিটি স্টুডেন্টদের?”
.
দেশের একজন কোভিড নাইন্টিন ফাইটার, ওসমানী মেডিকেলের অধ্যাপক ডাঃ মুঈনুদ্দিন স্যার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন।আমি অবশ্যই দেশের এই সম্পদের মৃত্যুতে মর্মাহত এবং ওনার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি।
.
ওনি এ্যাম্বুলেন্সের অভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা আসতে না পেরে
মারা গেলেন। আর অসুস্থ আল্লামা শফী এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে চড়লেন, তখন রিপোর্ট হয়ে গেল,
“দেশটা আল্লামা শফীর, ডা. মুঈনুদ্দীনের না।”
.
বাহ্ বাহ্ বাহ্!
মনে হচ্ছে দেশে একটাই এয়ার এ্যাম্বুলেন্স, আর সেটা সরকার মুঈন স্যারকে না দিয়ে আল্লামী শফীকে দিয়ে দিছে।
.
অথচ সেদিন যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ কাজে গিয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত যশোরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিব হাসানকে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকা আনা হলো।
.
তো অভিন্ন লড়াইয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মর্মে হেডলাইনটা এমন হতে পারতো,
“দেশটা নাজিব হাসানের, ডাঃ মুঈনুদ্দীনের না।”
.
কিন্তু তা না হয়ে সবার দৃষ্টি নেয়া হল একজন মৌলানার দিকে।
.
এরকম দৃষ্টিভঙ্গি দলকানাদের তা আমি বলবনা।
আমি বলবা, মানুষের বিবেক-বুদ্ধি যখন লোপ পায় তখন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এরকম দূষিত হয়ে যায়।
.
নাজিব সাহেব চড়তে পারে,অমুক তমুক সাহেব চড়তে পারে, শফী হুজুর চড়লেই দোষ।

.
দেশের খারাপ সময়;
পৃথিবীর খারাপ সময়।
এবার তো একটু শোধরা, নাকি?

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত