24 C
Dhaka
Sunday, February 28, 2021

কওমী মাদরাসাসমূহ নীতি বিসর্জন দিয়ে সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারেন নাঃ শীর্ষ ৭১ আলেমের বিবৃতি

- Advertisement -
- Advertisement -

চলমান২৪ঃ গত (২৬ এপ্রিল) রোববার দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত ‘এই প্রথম সরকারী অনুদান চাইছে কওমী মাদরাসা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ৬৭ জন হক্কানি ওলামা-মশায়েখ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, উপমহাদেশ ব্যাপী বিস্তৃত কওমী মদরাসাসমূহ কওমি মাদ্রাসাসমূহের ‘মা’ খ্যাত ভারতের বিখ্যাত দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে আসছে।

২৯ এপ্রিল বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে উলামায়ে কেরাম বলেন, দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠালে অলঙ্ঘনীয় যে ‘উসূলে হাশতেগানা’ তথা আট মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়, তার অন্যতম একটি হলো ‘যে কোন পরিস্থিতিতে সরকারী অনুদান গ্রহণ করা যাবে না”। সুতরাং এই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে দেশের কোন কওমি মাদ্রাসা সরকারী অনুদান গ্রহণ করতে পারে না। যারা কওমী মাদরাসার নীতি-আদর্শ ও পরিচিতি বহন করে সরকারী অনুদান চেয়েছে, আমরা দারুল উলূম দেওবন্দের দ্বীনী খেদমতের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নীতি-আদর্শ রক্ষার্থে তাদের প্রস্তাব জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করছি এবং এ বিষয়ে তাদের সাথে আমরা একমত নই।

বিবৃতিতে শীর্ষ ওলামা মশায়েখগণ আরো বলেন, এই উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার হুবহু ঐ মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে।

তারা বলেন, মৌলিকভাবে কওমী মাদরাসাসমূহের মূল শক্তিই হলো আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও ভরসা। তাই দেওবন্দী ঐতিহ্যের সেই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে আমরা কোনভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না।

কওমী উলামা-মাশায়েখগণ আরো বলেন, যুগ যুগ ধরে আল্লাহ তা’আলা দ্বীনদার শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাহায্য সহোযোগিতার মাধ্যমে এই দ্বীনী প্রতিষ্ঠানসমূহ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করে আসছেন। আগামী দিনগুলোতেও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর কুদরতি সাহায্যের মাধ্যমে এই কাওমী প্রতিষ্ঠানগুলো হেফাজত করবেন, ইনশাল্লাহ। কওমী মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ আহ্বান, ক্ষণিকের সঙ্কট উত্তরণে সামান্য সরকারি অনুদান গ্রহণ করে অনন্তকালের কুদরতি সাহায্যের রাস্তা বন্ধ করবেন না। আল্লাহ পাকের উপর দৃঢ় ভরসা রাখুন, দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য দোয়া জারি রাখুন। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা আমাদের হেফাজত করবেন, ইনশাল্লাহ।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা শায়েখ জিয়া উদ্দিন, আল্লামা মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, আল্লামা নুরুল ইসলাম (আদীব হুজুর), আল্লামা মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী, আল্লামা হাফেজ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, আল্লামা আব্দুল হামীদ (পীর সাহেব মধুপুর), আল্লামা মুনিরুজ্জামান সিরাজী, আল্লামা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, আল্লামা আরশাদ রহমানী (বসুন্ধরা), আল্লামা নুরুল হক (বট্টগ্রাম হুজুর), অধ্যক্ষ মিযানুর রহমান চৌধুরী (শায়েখে দেওনা), আল্লামা উবায়দুল্লহ ফারুক, মাওলানা মাহমুদুল আলম (সিরাজগঞ্জ), মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী (জামিল মাদরাসা), মুফতী মোবারকুল্লাহ (বি-বাড়ীয়া), মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফী, মাওলানা মাহফুজুল হক (রাহমানিয়া), মাওলানা বাহা উদ্দীন যাকারিয়া (আরজাবাদ), মুফতী শফিকুল ইসলাম (সাইনবোর্ড), মাওলানা নুরুল ইসলাম (খিলগাঁও), মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, হাফেয মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী (বারিধারা), মাওলানা খুরশেদ আলম কাসেমী (খতীব, আল্লা করীম), মাওলানা আব্দুল আউয়াল (নারায়ণগঞ্জ), মুফতি মুনির হোসাইন হোসাইন কাসেমী, মুফতি বশির উল্লাহ, মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, মাওলানা আব্দুল বছির (সুনামগঞ্জ), মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা জামিল আহমদ আনসারী (মৌলভীবাজার), মাওলানা বশির উদ্দিন (নরসিংদী), মাওলানা আব্দুর রহিম, মুফতি রফিকুল ইসলাম, মাওলানা বশির আহমদ (সৈয়দপুর,মুন্সিগঞ্জ), মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী (ময়মনসিংহ), মাওলানা মাহবুব উল্লাহ, মাওলানা নুরুল আবসার মাসুম, মাওলানা আবুল কাশেম (জামালপুর), মুফতি শামসুদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ খান, মুফতি আবু তাহের (নেত্রকোনা), মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ জামী (কিশোরগঞ্জ), মাওলানা আতাউর রহমান কাসেমী, মাওলানা লোকমান মাযহারী (কুমিল্লা), মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী, মাওলানা শাহজালাল, মাওলানা আব্দুল আজিজ (টাঙ্গাইল), মাওলানা ইয়াসিন, মাওলানা হেলাল উদ্দিন (ফরিদপুর), মুফতি কামরুজ্জামান, মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, হাফেজ মাওলানা দেলোয়ার, মাওলানা সাখাওয়াত হোছাইন (খুলনা), মুফতি শহিদুল ইসলাম, মুফতি নজরুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ), মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা নূর মোহাম্মদ (মিরপুর), মাওলানা আলী আকবর (সাভার), মাওলানা আব্দুল খালেক শরিয়তপুরী, মাওলানা সুলাইমান নোমানী, মাওলানা আজিমুদ্দিন, মুফতি মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

- Advertisement -

Latest news

হতাশ হয়ে পাকিস্তানে ফেরত যাচ্ছেন নাগরিকত্বের আশায় ভারতে আসা হিন্দু ও শিখরা!

আশাহত হয়ে পাকিস্তান ফিরে যাচ্ছেন মোদি সরকারের আমলে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু ও শিখ শরণার্থীরা। করোনার কারণে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও...
- Advertisement -

যে গাছগুলোতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

যেসব গাছের এক বা একাধিক অংশ প্রাণীদের ক্ষেত্রে দরকারি ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে ঔষধি গাছ বলে। গাছ যদি হয় বিভিন্ন রোগের ওষুধ, তখন...

হাজার কোটি টাকা দিলেও আর হিজাব ছাড়ব না : হালিমা ইডেন

ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে আপস করার জন্য চাপ অনুভব করার প্রেক্ষাপটে মুসলিম মডেল হালিমা ইডেন ফ্যাশন শো থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার ২৩ বছর...

ধর্ষকদের শাস্তি পুরুষাঙ্গ অকেজো, ইমরান খানের অনুমোদন!

ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড এবং রাসায়ানিক প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ অকেজো (খোজাকরণ) করে দেয়ার বিধান রেখে দুটি অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ। মঙ্গলবার...

Related news

হতাশ হয়ে পাকিস্তানে ফেরত যাচ্ছেন নাগরিকত্বের আশায় ভারতে আসা হিন্দু ও শিখরা!

আশাহত হয়ে পাকিস্তান ফিরে যাচ্ছেন মোদি সরকারের আমলে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু ও শিখ শরণার্থীরা। করোনার কারণে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও...

যে গাছগুলোতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

যেসব গাছের এক বা একাধিক অংশ প্রাণীদের ক্ষেত্রে দরকারি ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে ঔষধি গাছ বলে। গাছ যদি হয় বিভিন্ন রোগের ওষুধ, তখন...

হাজার কোটি টাকা দিলেও আর হিজাব ছাড়ব না : হালিমা ইডেন

ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে আপস করার জন্য চাপ অনুভব করার প্রেক্ষাপটে মুসলিম মডেল হালিমা ইডেন ফ্যাশন শো থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার ২৩ বছর...

ধর্ষকদের শাস্তি পুরুষাঙ্গ অকেজো, ইমরান খানের অনুমোদন!

ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড এবং রাসায়ানিক প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ অকেজো (খোজাকরণ) করে দেয়ার বিধান রেখে দুটি অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ। মঙ্গলবার...
- Advertisement -