26 C
Dhaka
Saturday, April 17, 2021

আসুন আলেম-উলামা আর ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে গালি দেই! •শাহরিয়ার পলাশ•

- Advertisement -
- Advertisement -

(লেখাটা সম্পুর্ন না পড়ে কোন মন্তব্য করবেন না )

চলমান২৪:: আমি বলি ধর্মভীরু, আপনি বলেন ধর্মান্ধ। ধর্মান্ধ কথাটি আমি মানি। ধর্ম আসলে অন্ধই হয়। জায়নামাজ বিছিয়ে যখন আমরা নামাজে দাঁড়াই তখন অন্ধভাবেই বিশ্বাস করি আল্লাহ আমার সামনেই আছেন। কিংবা যখন মূর্তির সামনে যান আপনি, মন্দির বা গির্জায় তখন আপনি অন্ধবিশ্বাসেই তা করেন।

মজার ব্যাপার কী জানেন। আপনি যখন দলকানা বা দলদাস হন তখন কিন্তু কেউ আপনাকে দলান্ধ বলে না। কারন আপনার বিশ্বাস অন্ধ না। আপনি নেতার পা চাটেন, চোরের পক্ষ নেন। আপনি সব জানেন। আপনি জানেন আপনার নেতা চোর। আপনার নেতা ধান্দাবাজ বা চাঁদাবাজ। কিন্তু ব্যক্তি লাভের আশায় আপনি সেটা করেন। কারন আপনার প্রমোশন দরকার। আপনার টাকার দরকার। আপনার পদ দরকার। তাই আপনি দলান্ধ নন, আপনি দলদাস বা দলকানা।

এই যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এত লোক সমবেত হলো, ওখানে কিন্তু কেউ মিষ্টি বিতরণ করেনি। গাড়ি ভাড়া দেয়নি। কিন্তু তবুও তারা গিয়েছেন। কারণ তিনি একজন আলেম। আপনি যে তিনশ বা ৫শত হাজিরা দিয়ে কর্মী ভেড়ান সেই টাইপের আলেম না। বস্তুত পক্ষে আমি নিজেও ওনার নাম আগে কখনো শুনেছি বলে মনে পড়ে না।

মৃত্যুর পর শুনেছি তিনি ইসলামী আন্দোলনের (খেলাফত মজলিস)একজন নেতা ছিলেন। এই দলের ঢাকা মহানগরীর একজন নেতাকে আমি চিনি। ভদ্রলোক একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক বলে। তাও বছর খানেক আগে তাঁর সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার একটা ক্লাশ নিতে গিয়েছিলাম। সেই সূত্রেই পরিচয় হয়। আমার সাথে ভদ্রলোকের সাক্ষাত হয়েছে দুইবার। সংগঠন সম্পর্কে আমার জানার সুযোগ হয়নি। বা সে আলোচনাও হয়নি।

চলুন পিছনে ফিরে দেখি:

১. ইতালি থেকে এসে যখন প্রবাসী বাংলাদেশিরা কোয়ারান্টাইন মানল না তখন আপনি কতটুকু সোচ্চার ছিলেন। আপনি কী জানেন এখনও বিদেশিরা আসছে। তাদের ব্যাপারে সচেতনতা মূলক কয়টা পোস্ট দিয়েছেন? উল্টো আপনি মন্ত্রীকে নিয়ে ট্রল করেছেন। তখন আপনার এত আবেগ কোথা থেকে এসেছে?

২. খালেদা জিয়াকে মুক্তির দিন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেতাকর্মী আর সাংবাদিকদের ভীড় দেখেছেন? আপনি কী জানেন ঐ অনুষ্ঠান কভার করা অনেক সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন! নেতা কর্মীদের কথা বাদ দিলাম। আপনার কী মনে হয় সেটা জায়েজ ছিল নাকি আপনি ঘুমিয়ে ছিলেন!

৩. আপনি কী জানেন গার্মেন্টস কর্মীরা কেউ কেউ ১০০ মাইল হেঁটেও কর্মস্থলে এসেছিল। এরপরই গাজীপুর এখন তৃতীয় ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা। আপনি কী ঘুমাচ্ছেন? জেগে উঠুন প্লিজ! আরও আছে।

৪. প্রতিদিন অনেক গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে গাদাগাদি করে কাজ করে এখনো হাজারো শ্রমিক! তারা করোনায় আক্রান্ত হবে না!

৫. বেতনের জন্য প্রায় প্রতিদিন এই কর্মীরা রাস্তায় গাদাগাদি করে আন্দোলন করেছে! কই আপনিতো কোন গার্মেন্টস মালিককে বলেন নি তাদের বেতন কেন দেয়া হচ্ছে না। কেন তারা রাস্তায়? নাকি তারা করোনা প্রুফ?

৬. যারা সরকারি ছুটি ঘোষণার পর ঈদের ছুটি মনে করে বাড়ি গিয়েছিল তাদের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

৭. আপনি কি জানেন শুধু প্রতিদিন কারওয়ান বাজার আর যাত্রাবাড়ী বাজারে আনুমানিক ৫০ হাজার লোক সমবেত হয়? এরা করোনা ছড়ায় না? একদিনও লিখেছেন? আপনার আশেপাশের ছোট বাজারের কথা বাদ-ই দিলাম।

মজার ব্যাপার কী জানেন! আপনি এখন কেবল মাত্র বারবার হাত ধোঁয়া শিখেছেন। আর এই হুজুররা কিন্তু প্রতিদিন ৫ বার শুধু হাত না, মুখ, হাত, পা সব ধোঁয়ায় ব্যস্ত যখন থেকে তারা বুঝতে শিখেছে তখন থেকে। আবার যারা তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে, সালাতুজ্জ তসবিহ পড়ে, এশরাক বা আওয়াবিন নামাজ পড়ে তাদের ধোঁয়া অনেক সময় আরও বেশি হয়। আপনি সেটা জানেনই না।

আচ্ছা বলুনতো, কতজন হুজুর এই পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন, আর আমাদের মত শিক্ষিতদের কতজন?

আরও একটা মজার তথ্য দেই আপনাকে। বেশির ভাগ হুজুরদের বেতন কিন্তু ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। কিন্তু দেখেন তাদের চেহারার জৌলুশ আমার আপনার চেয়ে ভালো। এর কারন কী জানেন তারা অন্ধ। এই অন্ধবিশ্বাসই তাদের চেহারায় জৌলুশ দিয়েছে। এটা আল্লাহ প্রদত্ত। এর সন্ধান যিনি পেয়েছেন তিনিই এর মর্মার্থ বুঝেন। আপনার আমার মত শিক্ষিতদের তা বুঝার ক্ষমতা নেই।

এই যে বাপ মাকে করোনায় আক্রান্ত হলে জঙ্গলে ফেলে আসে, দেখতে যায় না, জানাজায় যায় না, তারা কতজন হুজুর আর কতজন আমার আপনার মত! কোন পরিসংখ্যান আছে আপনার কাছে?
অাবার করোনায় অাক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির জানাযা,কাফন,দাফনতো এই হুজুরেরাই করছে…!

আর হ্যাঁ ব্রাহ্মণবাড়িয়া আমার জীবনে ২/৩ বার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। সেখানে আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই। কিন্তু এই গণজমায়েতে জেলাটির কী দোষ তা আমার বোধগম্য নয়।

পুনশ্চঃ আমি এই গণজমায়েত সমর্থন করি না। আমি মনে করি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সরকারের সব নির্দেশনা আমাদের মেনে চলা উচিত। আমি নিজেও তা মেনে চলি। এই লেখাটি যারা হুুুুজুরদের বিশ্রি ভাষায় গালি দিয়েছেন তাদের উদ্দেশ্য লেখা। যারা গঠন মূলক সমালোচনা করেছেন তাদের সাধুবাদ জানাই।

লেখক; সাধারণ সম্পাদক, ঢাকাস্থ চাঁদপুর সাংবাদিক ফোরাম।

- Advertisement -

Latest news

হতাশ হয়ে পাকিস্তানে ফেরত যাচ্ছেন নাগরিকত্বের আশায় ভারতে আসা হিন্দু ও শিখরা!

আশাহত হয়ে পাকিস্তান ফিরে যাচ্ছেন মোদি সরকারের আমলে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু ও শিখ শরণার্থীরা। করোনার কারণে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও...
- Advertisement -

যে গাছগুলোতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

যেসব গাছের এক বা একাধিক অংশ প্রাণীদের ক্ষেত্রে দরকারি ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে ঔষধি গাছ বলে। গাছ যদি হয় বিভিন্ন রোগের ওষুধ, তখন...

হাজার কোটি টাকা দিলেও আর হিজাব ছাড়ব না : হালিমা ইডেন

ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে আপস করার জন্য চাপ অনুভব করার প্রেক্ষাপটে মুসলিম মডেল হালিমা ইডেন ফ্যাশন শো থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার ২৩ বছর...

ধর্ষকদের শাস্তি পুরুষাঙ্গ অকেজো, ইমরান খানের অনুমোদন!

ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড এবং রাসায়ানিক প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ অকেজো (খোজাকরণ) করে দেয়ার বিধান রেখে দুটি অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ। মঙ্গলবার...

Related news

হতাশ হয়ে পাকিস্তানে ফেরত যাচ্ছেন নাগরিকত্বের আশায় ভারতে আসা হিন্দু ও শিখরা!

আশাহত হয়ে পাকিস্তান ফিরে যাচ্ছেন মোদি সরকারের আমলে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু ও শিখ শরণার্থীরা। করোনার কারণে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও...

যে গাছগুলোতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

যেসব গাছের এক বা একাধিক অংশ প্রাণীদের ক্ষেত্রে দরকারি ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে ঔষধি গাছ বলে। গাছ যদি হয় বিভিন্ন রোগের ওষুধ, তখন...

হাজার কোটি টাকা দিলেও আর হিজাব ছাড়ব না : হালিমা ইডেন

ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে আপস করার জন্য চাপ অনুভব করার প্রেক্ষাপটে মুসলিম মডেল হালিমা ইডেন ফ্যাশন শো থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার ২৩ বছর...

ধর্ষকদের শাস্তি পুরুষাঙ্গ অকেজো, ইমরান খানের অনুমোদন!

ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড এবং রাসায়ানিক প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ অকেজো (খোজাকরণ) করে দেয়ার বিধান রেখে দুটি অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ। মঙ্গলবার...
- Advertisement -